Sunday, October 13, 2019

ANWESHAN 2019


ANWESHAN 2019

Anwesha Kolkata celebrated its 14th annual awareness programme "Anweshan 2019” during the International Week of the Deaf (IWD) which is celebrated annually the last full week of September (Monday through Sunday) and ends with International Day of the Deaf on the last Sunday of September. The purpose of IWD is to increase public awareness on deaf issues, people and culture. Activities and events throughout Deaf Awareness Week encourage individuals to come together as a community for both awareness events and celebrations.

The annual awareness programme was celebrated through two events on September 24 and 27, 2019.

Community awareness Programme:

Anwesha Kolkata and Pratidhwani WB organised an awareness programme on Deafness at the Victoria Statue, Main Museum Building in collaboration with the Indian Museum on 24th September 2019 supported by Commissioner Disabilities, WB. The programme commenced with the welcome speech by Ms. Anindita Chakroborty, member, Anwesha Kolkata along with dance by little kids with deafness at 10.00 A.M sharp. Mr. Piyush Saha, District Project Officer, ICDS, and Dr. Sayan Bhattacharya, Education Officer, Indian Museum joined us as Special Guests. They along with Ms. Snigdha Sarkar, President, Anwesha Kolkata and the children lighted the auspicious lamp and inaugurated the programme. Our children cordially greeted the guests with flower bouquets and gifts.

The guests spoke beautifully; Mr. Saha highlighted the importance of paying attention to children in many aspects including their nutrition, opportunities for play, socialisation and others. Dr. Bhattacharya encouraged the initiative of the organisation and assured future support to our endeavours. Ms. Sarkar made a presentation on Anwesha and its activities and its beliefs.

Disha Chakraborty and Soutrik Ray- two of our young children performed recitation. Then the children put up an excellent show by presenting a skit on “Guptadhoner Sandhane (In search of treasure)”. It revealed the message to treat our natural resources as treasures and conserve the same by all means for our future generation. Under the guidance of Mr. Abhijit Ghosh- a life skill trainer, the children did their part very well and got instant praise from the audiences.

Two parents of deaf children were requested to share their experience with audiences. The audiences were mesmerized to see the splendid performance of BONDHU members. Mr. Souradip Chakraborty alias Remo demonstrated his unique painting skills. Anudeep Saha, Kaushani Ghatak and Achyut Mukherjee- Three young adults beautifully portrayed the issue of respect for women in our society. They added humour to the message, making the play very entertaining and meaningful at the same time. The finishing moment of their play involving the entire audience was really praiseworthy.

Around 150 people actively participated in the programme and encouraged us to present a good show.

Nakshatra Samman & Panel Discussion:

The programme was held on  27th September 2019 at Turiyananda Hall, Ramakrishna Mission Institute of Culture, Kolkata with support from Commissioner Disabilities, Govt. of West Bengal and Indian Oil. Through panel discussion, award ceremony and leaflet distribution to the audiences the campaign issues of IWD 2019 were addressed. Around 135 people actively participated in the programme and encouraged us to present a good show.

The programme commenced with the welcome speech by Ms. Anindita Chakroborty, member Anwesha Kolkata. Sri Debabrata Chattaraj, IAS, Commissioner  Disabilities, Govt. of West Bengal, Sri Gautam Chaudhuri, ,Sri Dilip Ghosh, Sri Supriya Kumar, Expert in Disability field, Smt. Supriya Sengupta, Ex NIHH and Ms. Snigdha Sarkar, President, Anwesha Kolkata, paid floral tribute to late Swami Turiyananda and inaugurated the programme. Our children cordially greeted the guests with flower bouquets and gifts.

A film on Anwesha Kolkata’s activity was shown before the audiences. Sri. Debabrata Chattaraj special guest was requested to deliver his speech. Ms. Kaushani Ghatak (Academic excellence in M.Sc Human Development 2019), Mr. Anudeep Saha (Academic Excellence in BCA) and Mr. Souradip Chakraborty (Completion of Diploma in Painting with distinction) – all of them were called upon and felicitated on stage by Sri Debabrata Chattaraj, IAS.

At the next part of the programme, three deaf young achievers were conferred "Nakshatra Samman". The awardees were
·        Mr. Babu Kundu ( Academics)
·        Ms. Anurupa Ghosh (Livelihood) and
·        Mr. Antik Kumar Dewanji (Creative Performance- Dance).

They were all given a uttoriya, flower bouquet, citation and a silver memento each. After the award ceremony, a souvenir was released in the presence of Swami Sampurnanda ji, Secretary, RMIC, Golpark. Ms. Snigdha Sarkar thanked him profusely for his kind gesture by making the hall available to Anwesha Kolkata free of costs for the programme.

A panel discussion on "Mental Well-being of Persons with Deafness and Their Families” was conducted. Resource persons from the field of Psychology and Psychiatry and Experts on Deafness were part of the panel.
The panel members were:
·        Mr. Supriya Kumar, Expert on Deafness
·        Dr. Satyajit Ash, Psychiatrist
·        Ms. Nandini Sen, Psychologist, PKK
·        Dr. Ayanangshu Nayak, Psychiatrist
·        Ms. Ishita Das, Audiologist, PKK
·       Ms. Snigdha Sarkar, President, Anwesha Kolkata was part of panel and she also moderated the programme.

The session was quite insightful & interesting. Around 135 people, mostly parents and young adults actively participated in the programme and contributed to the discussion. Many important issues were discussed and everyone present felt that this discussion should continue and not be limited to one only. It was also decided at the end of the discussion that a guideline for parents and young adults would be formulated and shared for practice.

We thank Ms. Subha Sarkar Lahiri for sign language interpretation and Mr. Asgar Ali for close captioning throughout the session.

Last but not the least, Mr. Aloke Kumar Saha, Treasurer, Anwesha Kolkata offered vote of thanks and acknowledged the contribution of all in making the programme a success.

Wednesday, October 2, 2019

কানের জোর কমছে? পরখ করে নিন অ্যাপেই, শলা স্বাস্থ্য দফতরের : এইসময় পত্রিকা



কানের জোর কমছে? পরখ করে নিন অ্যাপেই, শলা স্বাস্থ্য দফতরের


অনির্বাণ ঘোষ

পুজোর আমেজ কড়া নাড়ছে দরজায়। অথচ এই উৎসবের মরসুমেই মাত্রা ছাড়ায় শব্দদূষণ। নির্ধারিত ডেসিবেলের তোয়াক্কা না-করা দিনভর কানফাটানো মাইকের অত্যাচার সইতে হয় আমজনতাকে। শব্দ-দানবের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠে হৃদযন্ত্রের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় হরমোন ও মানসিক স্বাস্থ্যও। যদিও এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব যে পড়ে শ্রবণক্ষমতায়, তা বিজ্ঞানে প্রমাণিত। এমনই সন্ধিক্ষণে একটি অ্যাপের সাহায্যে নিজের শ্রবণক্ষমতা নিজের স্মার্টফোনেই মেপে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। রীতিমতো বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রচারও চালাচ্ছে স্বাস্থ্য ভবন।

বাজারচলতি হরেক অ্যাপের সন্ধান মেলে প্লে-স্টোর কিংবা অ্যাপ-স্টোরে। নিজের অডিয়োমেট্রির মাপতে সে সবের পক্ষে অবশ্য সওয়াল করছেন না স্বাস্থ্যকর্তা কিংবা চিকিৎসকরা। তাঁদের প্রেসক্রিপশন, ‘হিয়ারহু’ (hearWHO) নামের একটি অ্যাপ। কয়েক মাস আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এই হিয়ারিং অ্যাপটি চালু করেছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘হিয়ারহু অ্যাপটি ব্যবহার করে খুব ভালো শ্রবণক্ষমতা যাচাই করা যায় নিজে-নিজেই। বাজারচলতি অ্যাপের মতো এটি নয়।’ তাঁর আক্ষেপ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অ্যাপটি চালু করার পর তা নিয়ে জনমানসে খুব একটা সচেতনতা তৈরি হয়নি। ‘তাই জাতীয় বধিরতা নিবারণ ও নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় এই সফটওয়্যার অ্যাপটি নিয়ে আমরা প্রচার শুরু করেছি। আজকাল প্রায় সকলেই স্মার্টফোন ব্যবহার করে। ফলে শোনার শক্তি প্রত্যাশিত স্তরে আছে না নেই, তা এই অ্যাপের সাহায্যে ঠাহর করা একেবারেই কঠিন নয়’--- মন্তব্য অধিকর্তার।

ইএনটি বিশেষজ্ঞ অর্জুন দাশগুপ্ত মনে করেন, অ্যাপটি যেহেতু বাজারে এনেছে হু, তাই এর বিজ্ঞানভিত্তি প্রশ্নাতীত। তিনি বলেন, ‘আমি নিজে অ্যাপটি ব্যবহার করেছি। আমার রোগীদেরও এই অ্যাপ ব্যবহার করার পরামর্শ দিই নিয়মিত। বধিরতা তো অনেক পরের স্তর। প্রাথমিক ভাবে শ্রবণক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে কি পাচ্ছে না, তা বোঝার জন্য অ্যাপটি সত্যিই খুব কার্যকর।’ তিনি মনে করেন, উৎসবের মরসুমে এই অ্যাপটি নিয়ে যে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়াস অত্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ। কেননা, লাগাতার উঁচু ডেসিবেলের শব্দ কান, হৃদযন্ত্র, রক্তচাপ, মানসিক স্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে যাঁদের কানে আগে থেকেই ছোটখাটো সমস্যা আছে, তাঁদের কান ও শ্রবণক্ষমতার দ্রুত অবনতি ঘটে শব্দ দূষণের জেরে।

আর এক ইএনটি বিশেষজ্ঞ সুবীর হালদারের কথায়, ‘৮০ ডেসিবেল বা তার কাছাকাছি মাত্রার শব্দ আমরা ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত সয়ে নিতে পারি৷ কিন্তু তার বেশি সময় ধরে সেই শব্দ কানে ঢুকলে মুশকিল৷ অনিদ্রা থেকে স্মৃতিভ্রংশ, এমনকি মনোযোগেরও বারোটা বাজার আশঙ্কা ষোলো আনা৷’ কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ যদিও বেঁধে দিয়েছে শব্দমাত্রা। সেইমতো দিনে ও রাতে যথাক্রমে নিঃশব্দ এলাকায় ৫০ ও ৪০ ডেসিবেল, আবাসিক এলাকায় ৫৫ ও ৪৫ ডেসিবেল, বাণিজ্যিক এলাকায় ৬৬ ও ৫৫ ডেসিবেল এবং শিল্পাঞ্চলে ৭৫ ও ৭০ ডেসিবেল সর্বোচ্চ শব্দমাত্রা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, তার চেয়ে ঢের বেশি শব্দের অত্যাচার সইতে হয় কলকাতাকে।

কয়েক বছর আগে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের করা একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, শব্দের নিরিখে বিপদসীমার অনেকটা উপরে দিন কাটানোকে এ শহর প্রায় অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছে৷

ওই সমীক্ষা বলছে, শ্যামবাজার, গড়িয়া, টালিগঞ্জ, পার্ক সার্কাসের মতো এমন ২৬টি জায়গা, যেগুলির চরিত্র বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকার মিশ্রণ, সেখানে দিনের ব্যস্ততম সময়ে গড়ে ৭৯.৭৮ ডেসিবেল শব্দ উৎপন্ন হয়ে চলেছে৷ অন্য সময়ে সেই শব্দের প্রাবল্যও ৭৭.৮৮ ডেসিবেল যা পর্ষদের বেঁধে দেওয়া শব্দমাত্রার চেয়ে অনেকটাই বেশি৷ তাই চিকিৎসকরা বলছেন, কলকাতা ক্রমেই বধিরতার দিকে ধেয়ে চলেছে, সন্দেহ নেই। অ্যাপের সাহায্যে তার প্রাথমিক লক্ষণ যত আগে বুঝে নেওয়া যায়, ততই ভালো।

হাইলাইটস
  • পুজোর আমেজ কড়া নাড়ছে দরজায়। অথচ এই উৎসবের মরসুমেই মাত্রা ছাড়ায় শব্দদূষণ।
  • নির্ধারিত ডেসিবেলের তোয়াক্কা না-করা দিনভর কানফাটানো মাইকের অত্যাচার সইতে হয় আমজনতাকে।
  • শব্দ-দানবের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠে হৃদযন্ত্রের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় হরমোন ও মানসিক স্বাস্থ্যও।
  • যদিও এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব যে পড়ে শ্রবণক্ষমতায়, তা বিজ্ঞানে প্রমাণিত।

Saturday, August 17, 2019

কান নিয়ে অবহেলা নয় :


কান নিয়ে অবহেলা নয় 


কান নিয়ে মানুষের সচেতনতার অভাব রয়েছে। যে কারণে মাঝেমধ্যেই কান নিয়ে ব্যতিব্যস্ত হতে হয় অনেককে। আর শুধু শোনা নয়, দেহের ভারসাম্য রক্ষাতেও কানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কী ভাবে কানের যত্ন নেবেন, সমস্যা হলেই বা কী করবেন, জানাচ্ছেন চিকিৎসক পার্থ রায়
৭ মার্চ , ২০১৯, ০২:০৭:৩৭, শেষ আপডেট: ৭ মার্চ , ২০১৯, ০৪:১৭:৫৮


প্রশ্ন: কানের সমস্যা নিয়ে আমরা অনেক সময়েই অবহেলা করি। এটা কতটা বিপজ্জনক হতে পারে? কানের সমস্যা নিয়ে কখন সচেতন হওয়া উচিত?

কান দিয়ে আমরা শুনি অথচ গুরুত্ব দিই কম। এর ফলে বধিরতা পর্যন্ত হতে পারে। কানের যত্ন সব সময়েই নেওয়া উচিত। বিশেষ করে স্নানের সময়ে, বিছানায় ঘুমোতে যাওয়ায় সময়ে, বাজি ফাটানোর সময়ে কিংবা উচ্চ স্বরের যে কোনও শব্দ থেকে দূরে থাকা উচিত। শিশু, বৃদ্ধ ও গর্ভবতী মহিলাদেরও বিশেষ সতর্কতা নেওয়া দরকার।

প্রশ্ন: মূলত কোন বয়সের বাচ্চাদের কানের সমস্যা বেশি হয়? সাধারণত কী ধরনের সমস্যা দেখা যায়?

দুগ্ধপোষ্য শিশু থেকে স্কুলে যাওয়া পড়ুয়াদের (ছ’বছর পর্যন্ত) কানের সমস্যা হয় বেশি। বাচ্চাদের সাধারণত কানে ব্যথা হওয়া, কান চুলকানো, কান দিয়ে জল বেরনো বা পুঁজের মতো চটচটে আঠালো রস বার হওয়া—এমন নানা সমস্যা দেখা দেয়।

প্রশ্ন: বাচ্চাদের দেরিতে কথা বলতে শেখার সঙ্গে কানের কোনও সম্পর্ক আছে কি?

বিষয় দু’টি অনেকটাই সম্পর্কিত। বাচ্চারা সাধারণত যা শোনে, তা-ই বলতে চেষ্টা করে। ছ’মাস বয়স থেকে তারা এক অক্ষর, দু’অক্ষরের শব্দ বলতে শেখে। দু’বছরের মধ্যে অনেকেই কথা বলতে শিখে যায়। বাড়িতে মা-বাবা বা অন্যেরা যা যা বলে, সেটাই বলার চেষ্টা করে।  এখন যদি কোনও বাচ্চা কথা বলতে দেরি করে, তা হলে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ, কোনও শিশু যদি ঠিকমতো শুনতে না পায় বা শোনার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়, তা হলে তার কথা বলতে দেরি হতে পারে।   

প্রশ্ন: বাচ্চার বৃদ্ধির সঙ্গে কানের সম্পর্ক আছে কি?

যদি কোনও বাচ্চা বারবার কানের অসুখে ভোগে, তখন সে খিটখিটে হয়ে যায়। বদমেজাজি হতে পারে, অল্পতেই রেগে যায়। সে কারণে সব ক্ষেত্রেই তার বিরক্তি আসে। খাওয়াদাওয়াও ঠিকমতো করতে চায় না। এর ফলে স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। কানের অসুখ আবার বিভিন্ন ভাবে হতে পারে, যেমন—কানে ময়লা জমে, কানে জল জমে বা কানের ভেতরে কোনও সংক্রমণের কারণে। তাই বলা যায়, বাচ্চার বৃদ্ধির সঙ্গে কানের সম্পর্ক রয়েছে।    

প্রশ্ন: ঋতু পরিবর্তনের কোনও প্রভাব কানে পড়ে কি? যদি পড়ে, সেগুলি কেমন?

ঋতু পরিবর্তনে কান বিশেষ ভাবে প্রভাবিত হয়। ঋতু পরিবর্তনের সময়ে কানে সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ, অর্থাৎ যখন শীতের পরে গরম আসে,  জুলাই থেকে আগস্ট অর্থাৎ বর্ষায় এবং অক্টোবর থেকে নভেম্বরে অর্থাৎ, শীতের শুরুতে কানে সমস্যা হতে পারে। এই সময়ে সর্দি-কাশিও বেশি হয়। সর্দি কাশি বা ঠান্ডা লাগলেও কানের সমস্যা বাড়তে পারে।    

প্রশ্ন: কানের ময়লা নিয়মিত পরিষ্কার না হলে কী ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে?

কানের দু’টি কাজ—শোনা এবং দেহের ভারসাম্য রক্ষা করা। তাই কানের যত্ন নেওয়া দরকার। কানের ভেতরের অংশকে রক্ষার জন্য এক ধরনের মোমের মতো বস্তু থাকে। এখন, ধুলোবালির সংস্পর্শে তা ময়লা সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করলে বধিরতাও আসতে পারে। অসাবধানবশত কানের ভেতরে জল ঢুকলে এবং সময়মতো চিকিৎসা না হলে পুঁজের মতো তরল সৃষ্টি করে। একে কথ্য ভাষায় ‘কানপাকা’ বলে।  এ ছাড়াও কানের সমস্যা থেকে মানসিক বিকৃতিও আসতে পারে।    
 প্রশ্ন: কান কী ভাবে পরিষ্কার করা উচিত?
প্রথমেই বলি, কানের যে কোনও সমস্যা দেখা দিলে দেরি না করে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কান পরিষ্কারের জন্য তুলো লাগানো ‘স্টিক’ ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ। চিকিৎসকের পরামর্শে কানের ‘ড্রপ’ ব্যবহার করে কানের শক্ত ময়লা নরম করতে হবে। পাঁচ-সাত দিন পরপর ড্রপ ব্যবহার করলে উপশম মেলে। তা ছাড়া, খাবার খাওয়ার সময়ে, কথা বলার সময়ে বা হাঁটাচলার সময়ে স্বাভাবিক ভাবেই কানের পেশির সঞ্চালনে কানের ময়লা বেরিয়ে আসে। বরং তুলো লাগানো কাঠি বা অন্য কোনও সূচালো জিনিস দিয়ে কানের ময়লা পরিষ্কারের চেষ্টা করলে তা কানের আরও ভেতরে চলে গিয়ে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 
প্রশ্ন: শীতের সময়ে কান নিয়ে কী কী সাবধানতা নেওয়া উচিত?
শীতের সময়ে সর্দি-কাশি, হাঁচি ইত্যাদি উপসর্গগুলি বেশি দেখা দেয়। এই সময়ে ঠান্ডায় নাক বন্ধ হলে অনেক সময়ে কানে তালা লেগে যায়। আর তখনই অনেকে কানে খোঁচাখুঁচি করেন। আর তা থেকেই সমস্যার সূত্রপাত। তাই শীতে সর্দি-কাশি বা ঠান্ডা লাগা থেকে যতটা এড়িয়ে চলতে পারবেন, কানের সমস্যা ততই কম হবে। শীতের সময়ে প্রত্যক্ষ ভাবে কানে সমস্যা না হলেও পরোক্ষে অনেকখানি প্রভাব পড়ে।    
প্রশ্ন: স্নানের সময়ে বাচ্চাদের কানে জল ঢুকে সমস্যা হয়। এ ক্ষেত্রে কী করা উচিত?
যদি মনে হয়, কানে জল ঢুকে বাচ্চার সমস্যা হচ্ছে তবে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার। তুলোকাঠি দিয়ে কানে খোঁচাখুঁচি করা একেবারেই কাম্য নয়। স্নানের সময়ে বাচ্চাদের কান দু’হাত দিয়ে চেপে মাথায় জল দিলে কানে জল ঢোকার সম্ভাবনা কম থাকে।
 প্রশ্ন: কানে জল জমার সমস্যা কোন বয়সে বেশি হয়?
বাচ্চাদের কানে জল জমার সমস্যা বেশি দেখা যায়। কানে ‘ইউস্টেচিয়ান নালি’ থাকে, যার একটি প্রান্ত মধ্যকর্ণে আর অপর প্রান্ত থাকে নাকের পিছনে। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এই নালিটি আকারে ছোট, চওড়া ও প্রায় সোজা হয়। তাই মায়েরা দুধ খাওয়ানোর সময়ে বা বোতলে দুধ খাওয়ানোর সময়ে নাকের মাধ্যমে এই নালি দিয়ে দুধ মধ্যকর্ণে ঢুকে যায়। পরে তা সংক্রামিত হয়ে পুঁজের সৃষ্টি করে। তাই মনে রাখতে হবে, মায়ের কোলে বাচ্চাদের মাথা সমতলে না রেখে উঁচু করে রাখলে জল, দুধ কানে ঢোকার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম থাকে।
প্রশ্ন: অনেকে কানে তেল দেন। এতে কি কোনও সমস্যা হতে পারে?
কানে তেল দেওয়া একেবারেই স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এর ফলে কানের পর্দা ও চামড়া উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
 প্রশ্ন: কানের সঙ্গে দেহের ভারসাম্য রক্ষার সম্পর্ক আছে কি?
সরাসরি সম্পর্ক আছে। শোনার সঙ্গে সঙ্গে কান দেহের ভারসাম্য রক্ষার কাজ করে। বিশেষত অন্তঃকর্ণ দেহের ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করে। কানের অসুখে তাই শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
প্রশ্ন: ‘কান পাকা’ রোগ কী? এই রোগের লক্ষণগুলি কী কী?
অসাবধানবশত কানের ভেতরে জল জমলে পুঁজের মতো তরল সৃষ্টি করে। একে কথ্য ভাষায় ‘কানপাকা’ বলে। এই রোগে সাধারণত কান দিয়ে পুঁজ পড়ে, শুনতে সমস্যা হয়, কানে শোঁ শোঁ বা ভোঁ ভোঁ আওয়াজ হয় অথবা মাথা ঘোরে। অপুষ্টি, স্বাস্থ্য-সচেতনতার অভাব এই রোগের কারণ। আগাম সতর্কতা নিলে এই রোগ আটকানো সম্ভব।
প্রশ্ন: কানে ব্যথা বা পুঁজ হলে কী করবেন?
প্রথমেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বা বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া উচিত। বিভিন্ন কারণে কানে ব্যথা হতে পারে। বাড়িতে পড়ে থাকা কানের ড্রপ ব্যবহার করা অনুচিত, ওগুলি ব্যবহারের নির্দিষ্ট সময়সীমা ও পদ্ধতি রয়েছে। অনেকে গরম তেল ব্যবহার করেন। সাময়িক আরাম হলেও তা বর্জন করা উচিত।
 প্রশ্ন: কানে কম শোনার কোনও প্রকারভেদ আছে কি?
কানে কম শোনার প্রকারভেদ রয়েছে। বিষয়টি দু’ভাবে হতে পারে—(১) ‘কনডাক্টিভ হিয়ারিং লস’ এবং (২) ‘সেনসরিনিউরাল হিয়ারিং লস’। কোনও শব্দ কানে প্রবেশের পরে কতকগুলি স্তর পেরিয়ে যেতে হয়। বহিঃকর্ণ, মধ্যকর্ণ ও অন্তঃকর্ণ পেরিয়ে মস্তিষ্কে শব্দের অনুভূতি পৌঁছনোর পরে আমরা তা শুনতে পাই। এই প্রক্রিয়ায় বাধা তৈরি হলে শোনায় সমস্যা তৈরি হয়। কানের পর্দা বা পর্দার ভেতরের অংশে শব্দতরঙ্গ আটকে গেলে, তাকে ‘কনডাক্টিভ হিয়ারিং লস’। আর অন্তঃকর্ণ থেকে মস্তিষ্কে যাওয়ার পথে শব্দতরঙ্গ যদি আটকে যায়, তাকে ‘সেনসরিনিউরাল হিয়ারিং লস’ বলে। 
প্রশ্ন: ‘হিয়ারিং এড’ নিতে গেলে কি চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ জরুরি? 
অবশ্যই। ‘হিয়ারিং এড’ প্রয়োজনের সঙ্গে খাপ না খেলে ক্ষতি হতে পারে। ‘হিয়ারিং এড’ ব্যবহারের আগে কানের পরীক্ষা করানো জরুরি। এই পরীক্ষার নাম ‘অডিয়োমেট্রি টেস্ট’।
                                 
সাক্ষাৎকার: অভিজিৎ অধিকারী